এবার মঙ্গলের পাথর খুঁড়বে পারসিভারেন্স
পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী মঙ্গল। এই মঙ্গলপৃষ্ঠ ছোঁয়ার পর থেকে গত পাঁচ মাসে দক্ষিণের প্রায় তিন হাজার ফুট পথ অতিক্রম করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পাঠানো পারসিভারেন্স রোভার।
বর্তমানে সেটি ‘পেভার স্টোন’ নামে পরিচিত একটি জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। জেজিরোর তলদেশের এই জায়গাটি ফ্যাকাসে রঙের একটি পাথুরে এলাকা।
এবার এখানকার পাথরের নমুনা সংগ্রহে খোঁড়াখুড়ির প্রস্তুতি নিচ্ছে রোবটিক হাতযুক্ত রোভারটি।
পেভার স্টোনের এই পাথরগুলো পলিবাহিত, নাকি আগ্নেয় তা নিশ্চিত হতেই রোভারের সহায়তা নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের গবেষণায় সাহার্য করতে প্রথমে পেভার স্টোনের ওপরের ধুলো-ময়লার আস্তর সরাবে পারসিভারেন্স। এরপর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দিয়ে সেখানকার মাটি পরীক্ষা করবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, পারসিভারেন্স তার রোবটিক হাতে ধরা এসব যন্ত্র দিয়ে রাসায়নিক গঠন, খনিজ গুণ ও পাথরের ভেতরের গঠনবিন্যাস পরীক্ষা করবে। আঙুলের সমান একটি পাথরখণ্ড সংগ্রহ করে সেটিকে বাতাসহীন টিউবে ঢুকিয়ে পৃথিবীতে পাঠাবে। সবশেষে আগস্টের শুরুতেই পাথর ফুটো করার কাজ শুরু করবে রোবটটি। এ ধরনের প্রায় ৪০টি নমুনা সংগ্রহ করবে সেটি।
রোভারটির সংগ্রহ করা নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে পরে যৌথ উদ্যোগ নেবে নাসা ও ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইএসএ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের কেন্দ্রে ৪৫ কিলোমিটার প্রশস্ত জেজিরো ক্রেটারে সফল অবতরণ করে পারসিভারেন্স।
কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাঠানো ছবির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এক সময় হয়তো একটি হ্রদ ছিল জেজিরো খাদের অংশটি। এ ধারণা সত্য হলে সেখানে প্রাচীন ক্ষুদ্র জীবাণুধর্মী প্রাণের অস্তিত্ব মিলতে পারে বলেও মনে করা হয়।